'ইরান-ইরাকের মতো ভদ্র-নম্র-সভ্য মানুষের সাক্ষাৎ আর কোথাও পাইনি'

ইরান ভ্রমণের স্মৃতি উল্লেখ করে সাংবাদিক ও কলামিস্ট আনিস আলমগীর বলেছেন, ‘সত্যিই, ইরান আর ইরাকের মতো ভদ্র, নম্র আর সভ্য মানুষের সাক্ষাৎ আর কোথাও পাইনি ওই অঞ্চলে।’ আজ শুক্রবার (২০) জুন তিনি তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন।

আনিস আলমগীর বলেন, ‘আমেরিকা হয়তো শেষ পর্যন্ত ইরান আক্রমণ করে ফেলতে পারে, যদিও এর পরিণতি কেমন হবে তা তারা আগেভাগে ভাবছে বলে মনে হয় না। মনে রাখা দরকার, এই ইরানকে কাবু করার জন্যই তারা একসময় সাদ্দাম হোসেনকে শক্তিশালী করেছিল, দীর্ঘ আট বছর ইরান-ইরাক যুদ্ধ চালিয়েছিল — তবুও ইরান থেকে এক ইঞ্চি জমিও কেড়ে নিতে পারেননি।’

তিনি যোগ করেন, ‘আফগানিস্তান দখল করার চেষ্টাও তারা করেছিল। খরচ হয়েছিল ট্রিলিয়ন ডলার, কেটে গিয়েছিল ২০টি বছর আর চারজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মেয়াদ। আর ফলাফল? তারা তালেবানকে ক্ষমতা থেকে তাড়িয়ে আরেকটি তালেবানকেই বসিয়ে দিয়ে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছিল।’



আনিস মনে করিয়ে দেন, ‘১৯৭৯ সাল থেকে ইরান যে শাসনের ধারা শুরু করেছে, তা উৎখাত করে আরেকটি সরকার বসানোর চেষ্টা করলে তাতেও আরেক খোমেনী বা খামেনিই উঠে আসতে পারে — আরেকটি শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর ফিরে আসা আর সম্ভব নয়।’


তিনি বলেন, ‘সমস্যা হলো, এমন জটিল আর অজানাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো মাথামোটা নেতা কদাচিতই বুঝতে পারবেন। তার চেয়েও বড় কথা, ব্যক্তিগতভাবে আমার খারাপ লাগে ভাবতে যে এমন সুন্দর, সংস্কৃতিসমৃদ্ধ আর সুশীল মানুষের দেশ ইরান— যেখানে আমি ১৯৯৭ সালে গিয়েছিলাম, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত দেখেছিলাম এবং অজস্র স্মৃতি সঞ্চয় করে ফিরেছিলাম— হয়তো আর সেভাবে দেখা হবে না।’

তিনি ইরান-ইরাক ভ্রমণের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘জীবদ্দশায় হয়তো আরেকবার ইরাকে যাব— যুদ্ধদিনের স্মৃতিগুলো খুঁজতে, যুদ্ধ স্মৃতি খুঁজতে তৃতীয়বার আফগানিস্তানেও যাব— পাঠানদের সঙ্গে জলসানো কাবাব খেতে। আর হয়তো ইরানেও যাব— বোরকায় আবৃত কিন্তু অন্তর খোলা, স্মার্ট আর প্রাণবন্ত তরুণী, অসম্ভব মেধাবী সুশ্রী স্মার্ট তরুণদের সাথে আড্ডা দিতে।’


তিনি শেষ করেন, ‘যা-ই ঘটুক, এই দেশগুলি আর তাদের মানুষের উষ্ণতা আর সৌন্দর্য আমার মনে চিরদিন অমলিন থাকবে

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন