ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ না হলেও আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে কমিটি পুনর্গঠনের জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরের দুই শীর্ষ নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং একজন টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর এই পরিবর্তনের হাওয়া আরও বেগবান হয়েছে। দলীয় সূত্রমতে, গত ৯ মে দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায় ৯০০ শীর্ষ নেতার সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন ইউনিটে নতুন কমিটি গঠনের ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই সম্ভাব্য নেতাদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির শীর্ষ দুই পদের জন্য বর্তমানে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক অবস্থান নিচে তুলে ধরা হলো:আমিনুল হক: মহানগর উত্তরের একটি বড় অংশের নেতাকর্মী বর্তমান এই নেতার ওপরই আস্থা রাখতে চান। তাদের দাবি, আমিনুল হকের নেতৃত্বে বিগত দিনে সংগঠন অনেক শক্তিশালী হয়েছে, তৃণমূলের সক্রিয়তা বেড়েছে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনেও তার বিশেষ অবদান রয়েছে।এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন: তিনি ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও দক্ষ ও পরীক্ষিত সাংগঠনিক নেতা হিসেবে শীর্ষ পদের আলোচনায় রয়েছেন। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখ ঢাকা-১৮ আসনটি তার নির্বাচনি এলাকা হওয়ায় দলীয় কৌশলগত কারণে তাকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।মামুন হাসান: জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক এই ভারপ্রাপ্ত সভাপতিও নতুন নেতৃত্বের দৌড়ে ভালোভাবেই আছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, একাধিকবার মামলা-হামলা ও কারাভোগের ট্র্যাক রেকর্ড তাকে একজন 'ত্যাগী নেতা' হিসেবে দলে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।অন্যান্য আলোচিত নেতৃবৃন্দ: এছাড়া শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ পদের আলোচনায় আরও রয়েছেন মোস্তফা জামান, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং এবিএম আব্দুর রাজ্জাকসহ বেশ কয়েকজন নেতা।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল মূল দলই নয়, বরং মহানগরের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কমিটিও শিগগিরই পুনর্গঠন হতে পারে। পদপ্রত্যাশী নেতারা নিজ নিজ যোগ্যতার বায়োডাটা নিয়ে গুলশান কার্যালয় থেকে শুরু করে সচিবালয়ে মন্ত্রীদের দপ্তর পর্যন্ত জোর লবিং ও দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন।