যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির মর্মান্তিক পরিণতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ফ্লোরিডা পুলিশ। লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর তার রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়াকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের আশঙ্কা, নাহিদাও আর বেঁচে নেই এবং তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মরদেহ উদ্ধার
শুক্রবার ভোরে সেন্ট পিটার্সবার্গের হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর থেকে জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে ‘বিপুল পরিমাণ রক্ত’ খুঁজে পায়। নাহিদা বৃষ্টিকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল ক্যাম্পাসে দেখা গেলেও তার মরদেহের কোনো সন্ধান মেলেনি। পুলিশের ধারণা, তাকে হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহ ছিন্নভিন্ন করে ফেলা হয়েছে।অভিযুক্তকে গ্রেফতার
লিমনের রুমমেট হিশামকে গ্রেফতার করতে টেম্পার লেক ফরেস্ট এলাকায় সোয়াত (SWAT) টিম দিয়ে এক নাটকীয় অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ ২০ মিনিটের ব্যারিকেড পরিস্থিতির পর সে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। হিশামের বিরুদ্ধে বর্তমানে পারিবারিক সহিংসতা, প্রমাণ লোপাট এবং মরদেহ বেআইনিভাবে সরিয়ে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
সাবেক এফবিআই এজেন্ট ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. ব্রায়ানা ফক্সের মতে, অপরাধের আলামত যেভাবে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, তাতে এটি খুব বেশি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হয় না। বরং তাড়াহুড়ো করে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। আর্থিক লেনদেন, ব্যক্তিগত ঈর্ষা বা তাৎক্ষণিক ঝগড়া এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।তদন্তের বর্তমান অবস্থা
হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, জামিল লিমনের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর অভিযুক্ত হিশামের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ধারা যুক্ত করা হবে। অন্যদিকে, নাহিদা বৃষ্টির মরদেহের সন্ধানে বিশেষ অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও শোক বিরাজ করছে।