বাংলাদেশে গত দুই দশকের মধ্যে হামের ভয়াবহতম প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিলের মধ্যে মাত্র ২০ দিনে হাম সন্দেহে অন্তত ৯৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া মৃত্যুর সংখ্যা ১৭টি।ভয়াবহ এই সংক্রমণ রোধে গত রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং গাভির সহায়তায় ১০ লক্ষাধিক শিশুকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১৮টি জেলার উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই কার্যক্রম চলছে এবং আগামী ৩ মে থেকে এটি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। শিশুদের সুরক্ষায় সরকার টিকার বয়সসীমা ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস নির্ধারণ করেছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২০ সালের পর ২০২৪ সালে পরিকল্পিত জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাতিল হওয়ায় দেশে বড় ধরনের 'ইমিউনিটি গ্যাপ' তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা এবং কক্সবাজারের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ইউনিসেফ জানিয়েছে, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী যারা নিয়মিত টিকা পায়নি, তাদের এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক হালিমুর রশিদ জানিয়েছেন, আগের বছরের তুলনায় এবার আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অনেক বেশি। বর্তমানে সারা দেশে ৬ হাজার ৪৭৬ জন শিশুর শরীরে হাম-সদৃশ উপসর্গ দেখা গেছে এবং আক্রান্তদের চাপে অনেক হাসপাতাল ইতিমধ্যে উপচে পড়ছে।হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শ্বাস-প্রশ্বাস ও হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, জনসংখ্যার অন্তত ৯৫ শতাংশকে টিকার আওতায় না আনা পর্যন্ত এই রোগের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে অনেক অভিভাবক এখন তাদের সন্তানদের দ্রুত টিকা দেওয়ার জন্য হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন।