গোটা বিশ্বের ক্যানসার ইসরায়েল, একে শেকড় থেকে উপড়ে ফেলতেই হবে: খামেনির হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা যখন চলমান, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্য সফরে গিয়ে ইরানবিরোধী বক্তব্য রাখেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তেহরান প্রশাসনকে "দুর্নীতিগ্রস্ত ও অকার্যকর" বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে খামেনি বলেন, "শান্তির নামে মুখে বললেও, ট্রাম্প আসলে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন।" তিনি আরও দাবি করেন, "ট্রাম্প ইসরায়েলের হাতে ১০ টন বোমা তুলে দিয়েছেন, যার মাধ্যমে গাজায় শিশু হাসপাতাল ও সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।"

খামেনির ভাষণ চলাকালে জনসভায় উপস্থিত জনতা ইসরায়েলবিরোধী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠেন। "ইসরায়েলের পতন চাই"—এই দাবিতে গর্জে ওঠে সমবেত জনতা।

ট্রাম্পের ইরানবিরোধী বক্তব্যকে গুরুত্বহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে খামেনি বলেন, "ইসরায়েল একটি মরণব্যাধির মতো, এটি সমগ্র বিশ্বের জন্য হুমকি। গাজাকে রক্ষা করতে হলে এই রাষ্ট্রকে শেকড়সহ উৎপাটন করতে হবে।"

এদিকে তেহরানে অনুষ্ঠিত একটি নৌবাহিনী সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিশানা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, “যখন গাজায় প্রতিদিন অসংখ্য ফিলিস্তিনি নিহত হচ্ছেন, তখন ট্রাম্প কীভাবে শান্তির বার্তা দিতে পারেন?”

তিনি আরও যোগ করেন, “যিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, তার মুখে শান্তির কথা শুনলে তা অবিশ্বাস্য শোনায়।”

এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। চারবারের বৈঠকের পরও দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “ইরান কখনোই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বৈধ অধিকার থেকে সরে আসবে না।”

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন