লক্ষ্মীপুর জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে ৭৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে কেবল ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালেই ভর্তি আছেন ৫৮ জন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে। আজ বুধবার সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত তিন মাসে জেলায় মোট ৪১১ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৩৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ১৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং রামগঞ্জের এক শিশু ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। বর্তমানে সদর হাসপাতালে ৫৮ জন ছাড়াও কমলনগর, রায়পুর ও রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কারো শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি।চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ যা সাধারণত ৪ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। ৫-৭ দিন টানা জ্বর, শরীরে চুলকানি, কাশি ও বমিভাব থাকলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোরশেদ আলম হিরু জানান, বর্তমানে ভর্তি থাকা রোগীরা আশঙ্কামুক্ত এবং তাদের নিয়মিত চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অরূপ পাল অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হাসান শাহীন জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে এবং সবকটি হাসপাতালে রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।